Archive for the ‘কাব্য কথা’ Category

“গর্ব পতন”

ভালবাসতে বাসতে একটা লাজুক লতা কুড়িয়ে এনেছিলাম আমি!
সে অনেককাল আগের কথা,
সে আমার অন্য জীবনের কথা!
আমার পড়ার টেবিলের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া ল….ম্বা বারান্দা;
সে বারান্দার ধার ঘিরে ছিল লোহার গ্রিল,
চারকোনা খোপ খোপ গ্রিল;
আমার তেমনটাই মনে আছে,
যেমনটা এখন আমার ঘরের দেয়াল!
২৪ ঘন্টা আমি এখন যেখানে বাসকরি!
কিন্তু সে আমার অন্য জীবন…

একটা মাটির ভাড়ে লাজুকলতা মাটিতে ঢেকে গ্রিল গলে সুতোয় এটে লাগিয়ে দিলাম আমি!
ভালবাসার লাজুক লতা আমার!
আমি পড়ার ফাঁকে উকি দেই,
সময়ে অসময়ে হাত বুলাই!
লাজুক লতা বাড়ে,
বাড়ে আমার ভালবাসার শিহরণ!
লাজুক লতা বড় হয়,
বড় হয় আমার ভালবাসার দর্প!
লাজুক লতায় ফুল এল একবার..
ওই প্রথম আর ওই শেষ!
আমি রোজ যত্ন করি তার,
জল দেই, খুঁজে আনি সার!
আল্লাদে যেন বাগ বাগ হয় আমার লাজুক লতা!
লতা ভর্তি কত ফুল…
কি সুন্দর গাড়ো ম্যাজেন্টা রং ধরা তার গায়ে!
সবুজ চিনন পাতা, আর পাতার ভাজে শক্ত ধারাল কাঁটা!
কাঁটার ব্যাথা ভাবায় না আমায় কখনো!
আমি আরো ভালবাসি….
ভালবাসতে বাসতে মরে যাই যেন….
তবুও ভালবাসতেই থাকি!
লাজুক লতার ফুল, পাতা, কাঁটা, সবটাই…
সবকিছু!

সেবার ছুটি হল আমার।
লম্বা….ছুটি!
লাজুক লতা নিয়ে গেলাম না বাড়ি ভয়ে!
অনেক লম্বা পথ, যদি ভেঙ্গে যায়! যদি না বাঁচে আর!
ভাবলাম এত সুন্দর লতানো গাছ…
কেউ না কেউ নিশ্চই পানি দেবে!
বাঁচিয়ে রাখবে কেউ নিশ্চয়,
বেঁচে থাকবে ভালবাসা আমার!

কিন্তু যখন ফিরলাম…
দেখি শুঁকিয়ে কাঁঠ হয়ে গেছে আমার ভালবাসা!
লোহার গরাদে গলানো লতার রং যেন আর আলাদা করা যায়না!
সে মরে গেছে।
আমিই তাকে মেরে ফেলেছি!
রেখে এসেছি ভালবাসার গর্বে!
অবহেলা ভেবে শোধই নিল বোধহয়!
সে রইল না আর….

লতা কি আর ভালবাসা খায়!
সে তো খায় জল আর কাঁদা…
ভালবাসার ভরসায় রেখে এসেছি তাকে!
তাই সে আর থাকেনি!
আমিই তাকে মেরে ফেলেছি,
আমার নিজের হাতে!

০৩.২৬.২০১৯

ব্যস্ততায় বাস্তব

আনমনা কাক, থাক্ ভাল থাক্
ভাল থাক্ অবেলার রোদ;
শুকনো বকুল, সরষের ফুল
গোল্লাছুটে হারানো আমোদ!

তপ্ত ভীষন, ব্যস্ত জীবন
মনের উঠোনে খাঁ খাঁ তেজী খরা,
শ্যওলার ঝাড়, পুকুরের পাড়
শান্ত কালো জলে, খেলছে স্মৃতিরা!

মাঠে কাঁটা ধান, কৃষানের গান
কাঁশবনে দোলে, শরতের ঢেউ
খেজুরের পাটি, পাতার কাটাকাটি
ভাড়ে ভরা রস, দিয়ে গেল কেউ?

বিরোহী কোকিল, গেল দিয়ে ঢিল
স্বচ্ছ জলে, একমুঠো সোনা;
একলা প্রবাসে বসে অনায়াসে
ঝুলিতে বয়স, চেনা অচেনা!

ভুলে যাওয়া ভোর, দু’বাহুর ডোর
বৃষ্টিতে ঝরা, পড়ন্ত ক্ষোভ
এক কাপ চা, হাসি ঠাট্টা
কপালের টিপে, স্পর্শের লোভ!

রসে হল গুড়, প্রনালী নিগূঢ়
কাঁধে বয়ে চলা, পাটে বোনা বাক,
শিশিরের রোদ, শীতের বিরোধ
জীর্ণ আওয়াজে, হাটুরের হাক্।

ধূলী মাখা পথ্, গরু চলা রথ্
পিচ্ ঢেলে গেছে, পোড়া মবিল
এর-ই মাঝে বাস, শুধু হাসফাস
অন্তরে ক্লেদ, সহজ জটিল!

১১.২৬.২০১৯

অসময়ের আক্ষেপ

সময়ের হাতে সময় আমার,সময়ে জীবন যাপন,

সময়ের হাতে সময় রেখে,সময় করি বপন

চলছে সময়, হেলছে সময়, থামছে সময় কভু

একটু সময় আমায় দিতে, ছুটছি আমি তবু!!!

একটা সময় সপ্ন বাঁধে, একটা বাঁধে কান্না

একটা সময় আয়না আমায়, ডাকে সময় কন্যা

একটা সময় বড্ড ভারি, সময় মনের অসুখ

একটা বলে সময় ধর,সময় সাজবে যে সুখ

একটা সময় সৃতির ছিল, একটা এল ভীতির

ভীতির সময় বড্ড একা, একটা থাকল প্রিতির

প্রিতির সময় স্বল্প হল, ভাঙ্গল সময় মেলা

সময় বলে সময়ে চল,সময়ে ভাসাও ভেলা

সময় সময় সময় খুঁজি,সময় অসময়ের

মনের কণে সময় বোনে,একটা সময় তোদের

সময় পানে দুহাত তুলি,সময়ে চাইছি ক্ষমা

সময় হল ক্ষান্ত দেবার,সময় রেখে জমা!!!!

১০ই সেপ্টেম্বর, ২০১২

আক্ষেপ

অনেক কিছু করার ছিল

বুঝেছি এলে রাত….

অনেক কথা বলার বাকী

বুঝবে কোন সে জাত?

অনেক কিছু করব বলে

যেই করেছি পণ…

ব্যস্ত সবাই আটকাবে পা

চেষ্টা আমরন!

সঙ্গী যাদের অপূর্ণতা

শূন্য চারিপাশ

তাদের মধ্যে হয় যে সদা

নেতির বসবাস!

স্বচ্ছ জলে যারাই কেবল

খুঁজে বেড়ায় কাদাঁ

অন্যের জয়ে মুর্ছা যে হয়

তারাই সর্বদা!

প্রেমালাপ

অবর্ণীল, আজ-কাল তুমি বড্ড ধোঁয়াটে;

জগৎ হাতড়ে খোঁজ, পাই না তোমার মোটে!

অবর্ণীল, নীল আমার এখনো ভীষন প্রিয়;

তাই বুঝি তুমি নীলেই হলে, আকন্ঠ আবৃত?

অবর্ণীল, আমার জন্যেই কি কেবল তোমার এত কঠিন দন্ড?

যাবার বেলায় কেউ বুঝি করে, এমন রক্তারক্তি কান্ড?

তুমি ভাব নির্বোধ আমি?

বুঝবোনা তোমার মনমানি?

আমিও তবে তোমারই বাঁকা হাড়;

হারবেও তুমি, হেরেছ যেমনটি অন্য ক্ষনে বারে বার!

আচ্ছা..একটি কথা রাখতে কি তুমি পারো?

আমার পূর্ণ ক্ষণে, তুমি ছুটির জোগাড় করো!

ভবেতে খেলার সাঙ্গ যখন হবে;

এপার থেকে তুমিই আমায় একলা নিয়ে যাবে!

নইলে কিন্তু হোথায় গেলেও আড়ি,

ও রাগ আমার ভাঙ্গবেনা তাড়াতাড়ি!

অবর্ণিল, ভাবছ তুমি আমায় পাগলী বটে,

নইলে কি কেউ এত অকারণ চটে?

অপেক্ষা তোমায় করাব আমি আরো;

দেখি সেথায় একলা কদিন খুশি থাকতে পারো!

আসব যেদিন, তোমার সুখের নিদ্রা সেদিন ভঙ্গ,

এই সময়ে চাও যদি নিও ৭০ হুরের সঙ্গ!

অবর্ণীল, আজ আর কোন কথার বারণ,

সাজার মেয়াদ তোমার-আমার এখনো হয়নি পূরন!

০১.০৭.২০১৯

“অলির তরে কলির ক্রন্দন”

বাঁধিলে বসতি কুঞ্জবনে,
শঙ্কা হানিল কম্পিত প্রানে;
তৃষিত হৃদয় খুঁজিয়া ফিরিল ভুবন গৃহের ডোর;
আচানক ডাক হানিল অজানা, মুক্ত হইল দ্বোর।
দ্বোর সেতো নয়, মোহ ছিল তায়…
যদিবা বোধন হইলো তব, শেষের বেলাতে হাঁয়!

কণ্ঠে তাহার অমৃত ঝরে, বক্ষে গিরি অগ্নি
সেই দাবানলে আমিও জ্বলিলাম, যেমনই ঊষার লগ্নি।

তার তরে প্রাণ ব্যাকুল হইলো
কুলের শপথ ধূলিতে লুটিল,
প্রাণহীনে সে নিঃশ্বাস যেন লক্ষ শ্রাবণ বান
স্বর্গের সুখ নিভৃতে তার বিন্দু ধারার দান।
কুলের শপথ ভ্রম হইলো, ভীতিও ছাড়িল বটে
সাঁঝেতে দাগিল শপথের শাপ কালিমা ললাট পটে।

পিতৃস্নেহ নরকে উঠিল,কুল সম্ভ্রম সব ছিল গেলো
পূর্ণ অঞ্চল শূন্য হইলো…
তাহার তরের বাসনা যেমনই তেমনই করিয়া জাগিয়া রইল।

কৃষ্ণ তুমি লীলামগ্ন, সহস্র সখী ঘিরে,
শুষ্ক পত্রের পর্বত জমে আমার সিক্ত নীড়ে।
এত অনুরাগী যদি গো তোমার ওহে গুঞ্জিত অলি
কেন অকালে ঝরাইলে নব প্রস্ফুটিত এই কলি?