উপলব্ধি

এক যে ছিল হাঁস,
মনের দু:খে বনে গেল
করবে একা বাস।

এক যে ছিল কৈ,
বলল বন্ধু হাঁস কে ডেকে
বড্ড বোকা তুই।

প্যাকপেকিয়ে হাঁস,
উঠল তেড়ে কৈয়ের কথায়
বলে “কী বলতে চাস?”

কৈ বলল হেসে,
থাম রে ব্যাটা বলছি তোরে
শোন ঠান্ডা মাথায় বসে।

করিস না হাসফাস,
মনের দু:খ ভুলে একটু
মুখ তুলে তুই হাস।

নিজের দু:খ গাঁথা,
দে ছড়িয়ে আকাশ পানে
ভাব যে দশের কথা।

দু:খ আছে সবার মনে,
তাই বলে কেউ সব ছেড়ে আর
বাস করে না বনে।

জীবনখানা তোর,
পরের দু:খ লাঘব করে
খোল সুখের-ই দোর।

শান্তি যদি চাস,
তবে নিজের ভীতর ডুব দিয়ে খোঁজ
কেন যে হলি হাঁস।

কেন হলি না চিল,
আর কেন হলি না বক,
এই উত্তর খুঁজে পেলেই
তোর জন্মটা স্বার্থক!

হঠাৎ আলাপ

আমার একটা গল্প আছে,
বলব না হয় তোমার কাছে,
কোন এক জ্যোৎন্সা রাতে,
কিংবা কোন বিকেল এলে।

চায়ের দু’কাপ পাশাপাশি,
আমরা বসে ঘেসাঘেসি,
ঠিক যেন সেই পুরনো দিন,
গল্প বলার সময় সেদিন।

গল্প শুনেই ভুলে যেও,
আর কাউকে না জানতে দিও,
গল্পটা যে ভীষন একার,
সময় কোর মিলিয়ে দেখার।

তোমায় বলব সবটা খুলে,
পদ্ম যেমন পাপড়ি মেলে,
অজানা গোপন কথা যত,
কান্না হাসির পাহাড় শত।

শুনবে কি ভাই গল্পটা মোর?
সাধ্য কি আর করব যে জোর!
ব্যস্ত তুমি ভীষন জানি,
কিন্তু তোমায় আপন মানি।

জানি তোমার অনেক তাড়া,
একদিন এসো কাজ করে সারা,
সকাল কি বা রাতের দুপুর
একলা আমি তাই সময় প্রচুর।

আজ তবে যাও বিদায় নিয়ে,
খুদে বার্তা দিয়ো গিয়ে,
আজ যে তোমার অনেক কাজ,
থাক বাকি সব কথার ভাজ।

“চিঠি টু ম্যাসেজ”

আমি চিঠি লিখি না অনেক দিন।
কাকেই বা লিখব?
ঠিকানা জানা নেই কারো।

জানতে হয়ও না।
কারো হদিশ না পাই যখন,
মুখবই খুললেই হয় এখন।

মুখবই দেখি,
উল্টে পাল্টে, করি উপর নিচ।
কথা কইতে মন টানে না!

চিঠির ভাব কি আর মুখবইয়ে আসে?
আসে না!
অন্তত আমার তো নয়ই!

মাঝে মাঝে মনে হয়,
কেউ চিঠি লিখুক আমায়।
খুব চাই,
চাই একটা চিঠি এসে দরজায় উপস্হিত হোক।

“প্রিয়তমেসু, কেমন আছো?” লেখা থাকুক।
কিংবা “মা রে ভালবাসা নিস!” অথবা
“আপু, আশা করি ভালো আছো!”

আমিও চাই কাউকে উত্তর দিতে।
“ভাল আছি”, অথবা “তোমাদের জন্যেও ভালবাসা”!
মুখবই আছে, নেই শুধু ঠিকানা!

রানার হারিয়েছে, হারিয়েছে ডাক্ পিয়ন-ও।
এসেছে ম্যাসেন্জার!
আচ্ছা! ম্যাসেন্জার কি রানার?
মুহূর্তে পৌছে দেয় কথা প্রান্তর থেকে প্রান্তর।

তবু লেখা হয় না!
কথারা জমাট থাকে,
জমতে থাকে।
আর আলস্যর ভীড়ে জমে তাতে গেরুয়া ধূলী!

আমি একটা চিঠি পেতে চাই,
হোক না তার দাম একফোটা আধুলী!

১০.১০.২০২০

উষ্ণতা

চাতক পাখির দৃষ্টি তার, মেঘের বারী যেন আমি
তার দৃষ্টির বর্ষায় তথাপি আমার স্নানের সম্মতি
গভীর নেত্র পটে যেন কোন একাকী সলীল স্পর্শের আবেদনে
কূলের বুকে আছড়ে পড়ে বার বার
ক্ষত বিক্ষত তীর……
তবুও স্পর্শের আনন্দ………শান্ত সমুদ্র নাকি বন্য?
হিংস্র যেমন বনের অভুক্ত সিংহ !!!
গভীর শান্ত দৃষ্টি…..উষ্ণতায় পূর্ণ
যেমন তছনছ করা ঝড়ের আগে স্থির কোন সমুদ্র
শুধুই কি দেবার আনন্দে……
একটু তো স্পর্শ তবুও যেমন উষ্ণ মমতার কোন উদর

উষ্ণ সে কেবল ভালবাসার উন্মাদনায় 🙂

October 17,2012

“মৃত হৃদয়ের দেশে”

বাড়ি আমার ঐ যে হেথায়, মৃত হদয়ের দেশে,
আমি বলি হেসে হেসে।
হেথায় আমায় কেউ বোঝে না,
কেউ জানে না, কেউ খোঁজে না,
শুধু নেবার বেলায় জমে শ’খানা,
কয়না কথা হেসে।
আমি একটা ঘর তুলেছি,
মৃত হৃদয়ের দেশে!

এইতো সেদিন পা চিরল, ধারালো কাঁচের রোষে,
প্রতিবেশী গড়িয়ে পড়ে, দেখে কেবল হাসে।
বলল আরো, কেমন তরো, বুড়ো বেটির চাল?
আলতা পরার নামেই কি হায়, করলে এমন হাল!
আমি তখন মনের দু:খে ঠোঁট দু’টিকে পিষে,
নিজেকে বোঝাই, ঘর যে আমার,
মৃত হৃদয়ের দেশে!

ক’দিন আগে ক্লান্ত পায়ে, ফিরছি হেঁটে ঘরে,
বাড়ির কাছে যেতেই গেলাম নর্দমাতে পড়ে।
তাকিয়ে দেখি একটা পুরুষ, নালায় দিয়ে ঠেলে,
দূরে গিয়ে খাচ্ছে আমায়, ললুপ চোখে গিলে!
পথচারী অনেক ছিল, কেউ দাঁড়ালো, কেউবা গেল,
কেউবা আবার নিল মজা, বেশ কিছুটা কষে,
কেউ না তবু হাত বাড়ালো, তুলতে আমায় এসে,
আমি একটা ঘর তুলেছি, মৃত হৃদয়ের দেশে!

রইনু পড়ে, পচাঁ জলে, মেখে নালার কাদা,
কষ্টে হৃদয় হল ভারি, জমল লাজের গাদা!
ব্যাথা ভুলে,ভাবছি একা হেথায় বসে বসে,
দোষ্ যে আমার, ঘর তুলেছি, মৃত হৃদয়ের দেশে!
ঘরের মুখের প্রতিবেশী, বললে হেসে ভারি,
শুনেছো নাকি? নালার জলে, পড়েছে মেয়ে ধাড়ি।
আমিতো বাপু হেসেই মরি, এমন ঘটনা,
এই বয়সেও বুড়ো মাগী, দেখে চলবি না?
রাস্তা ঘাটে আমরাও তো, দিব্বি চলি ভাই,
ভদ্র বেটির সাথে কভু এমন দেখি নাই।
চাবির গোছা কাঁপে হাতে, দরজার খুলে তালা,
ঘরে ঢুকে কাপড় ধুলাম, ধুলাম মনের জ্বালা!
আয়না দেখে, মুখ বাড়িয়ে, নিলাম একটু হেসে
বলি আমার ভাগ্য খারাপ, নইলে কি আর
ঘর তুলছি? মৃত হৃদয়ের দেশে!

একা রাতে, নির্জনেতে, ভুগেছি কত জ্বরে,
পাশের ঘরে মানুষ ছিল, দিব্বি ঘুমের ঘোরে!
আপিসে যাবার মন ছিল না, তবুও ঢলে ঢলে;
ঠেলা গাড়ির মত গেলাম, আপিস করতে চলে।
কাশতে দেখে বড়কর্তা, ফাইল ক’টা দিয়ে,
বলেন, এ এক বিরাট জ্বালা, মেয়ে মানুষ নিয়ে!
একটু হলে শরীর খারাপ, হারায় সকল দিশে,
বলতে পারেন এই জগতে মেয়েরা লাগে কিসে?
কথা শুনে শরীরটা যে জ্বলেই গেল হায়!
মৃত হৃদয়ের দেশে ছাড়া, এমন কি কেউ কয়?

সবাই কেবল নিজের বোঝে, নিজের চেনে,
নিজের খোঁজে, চাইতে আমায় কেউ আসেনা,
নিখাঁদ ভালবেসে!
দু:খ আমার, ঘর হয়েছে, মৃত হৃদয়ের দেশে।
চোখের পানি দেখলে হেথায় সবাই মরে হেসে,
আমি একটা ঘর গড়েছি, মৃত হৃদয়ের দেশে।

কেউ কারো সুখ দেখলো যদি, হিংসে জলের করলো নদী,
মিথ্যে হাসি লাগিয়ে মুখে, মনের ঘরে আসে,
আজন্মকাল বসত আমার, মৃত হৃদয়ের দেশে!
মনটা খুলে, প্রানটা ঢেলে, আপন যদি করি,
চাটুকারীর বেশে এসে, মারবে তবে ছুরি!
ছদ্দবেশী এতই বেশি, আস্হা করা দায়,
মৃত হৃদয়ের দেশে, আমার বসত হল শেষে,
আমি করব কি আর, হায়!

০৮.৩১.২০২০

“আধ খোলা জানালা”

পনেরো বছর বয়সে
দিগ্বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিল মেয়েটা,
আঠেরোতে পা দিয়ে বসল,
ছিদ্রভর্তী এক ভালবাসার ডিঙ্গিতে।
ভালবাসার জন্য দিনের পর দিন পেরুতে হল,
এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।
সে এক বিচ্ছিরি কান্ড!

স্বপ্ন চলল, চলল ভালবাসাও।
ভালবাসলে নাকি দিগ্বিজয়ী হওয়া যায় না;
অনিয়মের সে সব প্রথা ভেঙ্গে,
সফলতার দ্বার ধরে যখন সে দাঁড়াল..
শরীরে…মনে… অসংখ্য রক্তক্ষরনের
গদগদে ঘা!
কয়েকটা দিয়ে তখনো গড়িয়ে পড়ছে
ফিনকি দিয়ে রক্ত!
মেয়েটার হাতে রক্তমাখা তরবারী।
ভাঙ্গা তার ডান পায়ের হাঁটু,
মাথার সিঁথী গড়িয়ে পড়ছে
লাল রক্ত কপালে।
মুখ-গলা আচ্ছন্ন হয়ে আছে সে রক্তে।
বুকের রক্তে আঁচল লেপ্টে আছে গায়ে।
সেসব কেউ দেখতে পেল না,
দেখল মেয়েটার হাসি!
সহস্র যুদ্ধের দামামা শান্ত করে যে হাসি;
নিকোটিনে পোড়া প্রেমিকের ফুসফুসে,
শুদ্ধ রক্তের প্রবাহ শুরু করে যে হাসি;
শরৎের সকালে সোনালী ধান ক্ষেতে,
ঢেউ খেলে যায় যে হাসি।
সে এক বিচ্ছিরি কান্ড!

ছিদ্রভর্তী ডিঙ্গীর মাঝি
ভয়ে লেজ গুটিয়ে পালালো সেসব দেখে।
মেয়েটি ততেও হাসে,
হাসে যেমন ডোবা জুড়ে হাজারটা লাল শাপলা।
সে এক বিচ্ছিরি কান্ড!

ছাব্বিশে তাকে নিয়ে যাওয়া হল ছাদনা তলায়।
আইবুড়ো ডাকে পরিচিত সে ততদিনে,
আড়ালে আবডালে।
এর পর আর দশটা মেয়ের মতই জীবন।
সফলতার হিসেবের চেয়ে,
হেঁশেলের হিসেব মেলানো হল বেশি জরুরী।

এখন বয়স তার বিয়াল্লিশ।
তার ঘরের সবকটা জানালার,
আধেকটা বন্ধ, আধেকটা খোলা।
আধখোলা জানলা দিয়ে সে দেখে
রোদের ঝলকানি,
বৃষ্টির খুনসুটি,
মেঘের লুকোচুরি।
আর সেই দিগ্বিজয়ীর হাসি মুখে নিয়ে বলে,
ছি:! কি বিচ্ছিরি ছিল সে সব কান্ড!

০৮.১৭.২০২০

দূরত্ব

আমার আর মন খারাপ হয় না।
বৃষ্টি দেখে আবেগী মেয়ে হয়ে কাঁদি না;
পাখিদের উড়ে যেতে দেখে,
আমার আর ডানা মেলে হারিয়ে যেতে
ইচ্ছে করে না!

আমি মন খারাপ করি না।
চার দেয়ালের ভেতরকে মনের মত সাজাতে না পারলে,
তুমুল সুনামী তোলার মত ইচ্ছেগুলোকে,
গরম ছাই চাপা করে দিয়েছি।
তাদেরকে বলে দিয়েছি,
তোরা মরেই যা!

আমি বৃষ্টি দেখে জানালা আটকে দেই,
ঝড় দেখে খুলি।
তোমাকে দেখে হেসে ফেলি,
চরম অনাগ্রহে না কি অবজ্ঞায়,
আলাদা করতে পারি না।
এক কাপ চায়ের প্রিয় সঙ্গী
এখন আমার নি:সঙ্গতা।
আমার তাতে মন খারাপ হয় না।

আমার মন খারাপ করতে নেই,
তুমি সময়-অসময় কাকে দিলে,
কি দিলে না,
এখন আমাকে আর ভাবায় না।
আমি আর ভাবি না
তুমি আমার আছো, কিংবা কোথাও নেই।

জানালার গাছে তুমি পানি ঢালো,
তুমি বিড়ালকে সাজাও,
তুমি আমার ঔষধ দিয়ে যাও,
আমি ঘুমিয়েছি কি না দেখে নাও,
তুমি পাশেই আছো,
কিন্তু তবুও কোথাও নেই।
আমার মন তাতে আর খারাপ হয় না।

তুমি ঘরের যত্ন নাও,
তুমি জানো,
মশলাটা কোথায় আছে,
মাছটা কোথায় থাকে,
তুমি জানো কি কিনতে হবে;
কোনটা ফেলার সময় হল,
শুধু আমাকে খুঁজতে জানো না!
আমি ওতে আর মন খারাপ করি না।

আমি তুমিহীনতায় এখন আর ভুগি না,
কারন আমার মন আর খারাপ হয় না!
আমার মন, খারাপ হতে নেই।

০৮.০৫.২০২০

“গর্ব পতন”

ভালবাসতে বাসতে একটা লাজুক লতা কুড়িয়ে এনেছিলাম আমি!
সে অনেককাল আগের কথা,
সে আমার অন্য জীবনের কথা!
আমার পড়ার টেবিলের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া ল….ম্বা বারান্দা;
সে বারান্দার ধার ঘিরে ছিল লোহার গ্রিল,
চারকোনা খোপ খোপ গ্রিল;
আমার তেমনটাই মনে আছে,
যেমনটা এখন আমার ঘরের দেয়াল!
২৪ ঘন্টা আমি এখন যেখানে বাসকরি!
কিন্তু সে আমার অন্য জীবন…

একটা মাটির ভাড়ে লাজুকলতা মাটিতে ঢেকে গ্রিল গলে সুতোয় এটে লাগিয়ে দিলাম আমি!
ভালবাসার লাজুক লতা আমার!
আমি পড়ার ফাঁকে উকি দেই,
সময়ে অসময়ে হাত বুলাই!
লাজুক লতা বাড়ে,
বাড়ে আমার ভালবাসার শিহরণ!
লাজুক লতা বড় হয়,
বড় হয় আমার ভালবাসার দর্প!
লাজুক লতায় ফুল এল একবার..
ওই প্রথম আর ওই শেষ!
আমি রোজ যত্ন করি তার,
জল দেই, খুঁজে আনি সার!
আল্লাদে যেন বাগ বাগ হয় আমার লাজুক লতা!
লতা ভর্তি কত ফুল…
কি সুন্দর গাড়ো ম্যাজেন্টা রং ধরা তার গায়ে!
সবুজ চিনন পাতা, আর পাতার ভাজে শক্ত ধারাল কাঁটা!
কাঁটার ব্যাথা ভাবায় না আমায় কখনো!
আমি আরো ভালবাসি….
ভালবাসতে বাসতে মরে যাই যেন….
তবুও ভালবাসতেই থাকি!
লাজুক লতার ফুল, পাতা, কাঁটা, সবটাই…
সবকিছু!

সেবার ছুটি হল আমার।
লম্বা….ছুটি!
লাজুক লতা নিয়ে গেলাম না বাড়ি ভয়ে!
অনেক লম্বা পথ, যদি ভেঙ্গে যায়! যদি না বাঁচে আর!
ভাবলাম এত সুন্দর লতানো গাছ…
কেউ না কেউ নিশ্চই পানি দেবে!
বাঁচিয়ে রাখবে কেউ নিশ্চয়,
বেঁচে থাকবে ভালবাসা আমার!

কিন্তু যখন ফিরলাম…
দেখি শুঁকিয়ে কাঁঠ হয়ে গেছে আমার ভালবাসা!
লোহার গরাদে গলানো লতার রং যেন আর আলাদা করা যায়না!
সে মরে গেছে।
আমিই তাকে মেরে ফেলেছি!
রেখে এসেছি ভালবাসার গর্বে!
অবহেলা ভেবে শোধই নিল বোধহয়!
সে রইল না আর….

লতা কি আর ভালবাসা খায়!
সে তো খায় জল আর কাঁদা…
ভালবাসার ভরসায় রেখে এসেছি তাকে!
তাই সে আর থাকেনি!
আমিই তাকে মেরে ফেলেছি,
আমার নিজের হাতে!

০৩.২৬.২০১৯

ব্যস্ততায় বাস্তব

আনমনা কাক, থাক্ ভাল থাক্
ভাল থাক্ অবেলার রোদ;
শুকনো বকুল, সরষের ফুল
গোল্লাছুটে হারানো আমোদ!

তপ্ত ভীষন, ব্যস্ত জীবন
মনের উঠোনে খাঁ খাঁ তেজী খরা,
শ্যওলার ঝাড়, পুকুরের পাড়
শান্ত কালো জলে, খেলছে স্মৃতিরা!

মাঠে কাঁটা ধান, কৃষানের গান
কাঁশবনে দোলে, শরতের ঢেউ
খেজুরের পাটি, পাতার কাটাকাটি
ভাড়ে ভরা রস, দিয়ে গেল কেউ?

বিরোহী কোকিল, গেল দিয়ে ঢিল
স্বচ্ছ জলে, একমুঠো সোনা;
একলা প্রবাসে বসে অনায়াসে
ঝুলিতে বয়স, চেনা অচেনা!

ভুলে যাওয়া ভোর, দু’বাহুর ডোর
বৃষ্টিতে ঝরা, পড়ন্ত ক্ষোভ
এক কাপ চা, হাসি ঠাট্টা
কপালের টিপে, স্পর্শের লোভ!

রসে হল গুড়, প্রনালী নিগূঢ়
কাঁধে বয়ে চলা, পাটে বোনা বাক,
শিশিরের রোদ, শীতের বিরোধ
জীর্ণ আওয়াজে, হাটুরের হাক্।

ধূলী মাখা পথ্, গরু চলা রথ্
পিচ্ ঢেলে গেছে, পোড়া মবিল
এর-ই মাঝে বাস, শুধু হাসফাস
অন্তরে ক্লেদ, সহজ জটিল!

১১.২৬.২০১৯

অসময়ের আক্ষেপ

সময়ের হাতে সময় আমার,সময়ে জীবন যাপন,

সময়ের হাতে সময় রেখে,সময় করি বপন

চলছে সময়, হেলছে সময়, থামছে সময় কভু

একটু সময় আমায় দিতে, ছুটছি আমি তবু!!!

একটা সময় সপ্ন বাঁধে, একটা বাঁধে কান্না

একটা সময় আয়না আমায়, ডাকে সময় কন্যা

একটা সময় বড্ড ভারি, সময় মনের অসুখ

একটা বলে সময় ধর,সময় সাজবে যে সুখ

একটা সময় সৃতির ছিল, একটা এল ভীতির

ভীতির সময় বড্ড একা, একটা থাকল প্রিতির

প্রিতির সময় স্বল্প হল, ভাঙ্গল সময় মেলা

সময় বলে সময়ে চল,সময়ে ভাসাও ভেলা

সময় সময় সময় খুঁজি,সময় অসময়ের

মনের কণে সময় বোনে,একটা সময় তোদের

সময় পানে দুহাত তুলি,সময়ে চাইছি ক্ষমা

সময় হল ক্ষান্ত দেবার,সময় রেখে জমা!!!!

১০ই সেপ্টেম্বর, ২০১২